ঢাকা , রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ , ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কী করতে পারেন, কী পারেন না? শপথ নিতে যাওয়া ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কে কোন মন্ত্রণালয়ে কারা মহাপরিদর্শকের বদলি নিয়ে অপপ্রচার, জাতিসংঘ মিশনে নতুন দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু, বেতন–ভাতাসহ যেসব সুবিধা পান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ৬ এমপি সংশোধন হবে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি ভোটের মুখোমুখি মির্জা ফখরুল ও অলি আহমেদ ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন দীপু মনি অবশেষে বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদে মনোনোয়ন পেলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট শিক্ষার্থীদের সাথে উৎসবমুখর পরিবেশে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলায় বইপড়া কর্মসূচীর শুভসূচনা। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাহিত্য আড্ডা রং ফর্সাকারী ৮ ব্র্যান্ডের ক্রিমে বিপজ্জনক মাত্রায় ক্ষতিকর উপাদান থাকায় বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা অত্যাচারের ছবি যেন আর তুলতে না হয়, সেই সমাজ গড়তে হবে: আলাল ‘গুলশানের চামেলি’তে ভিন্ন রূপে এডলফ খান, অভিনয় করবেন যৌনকর্মীর দালাল চরিত্রে সারজিস-পাটোয়ারীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ গুলশান থেকে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার ‘স্কুটি নাকি গোল্ড?’ ক্যাম্পেইনের বিজয়ীদের পুরস্কৃত করল এসিআই-এর ফ্রিডম ব্র্যান্ড, বাড়ল ক্যাম্পেইনের মেয়াদ

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১২ বছর, আজও ক্ষতিপূরণ পাননি অনেক শ্রমিক

  • আপলোড সময় : ২৪-০৪-২০২৫ ১০:২৩:৩০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০৪-২০২৫ ১০:২৩:৩০ পূর্বাহ্ন
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১২ বছর, আজও ক্ষতিপূরণ পাননি অনেক শ্রমিক

আজ ২৪ এপ্রিল। দেশের পোশাক শিল্পে এক শোকাবহ দিন। এই দিনে সাভারের রানা প্লাজা ধসে ১১৩৬ জন শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়। আহত হন আরও কয়েক হাজার শ্রমিক। দিনটি ঘিরে নানান শ্রমিক সংগঠন আয়োজন করেছে নানা কর্মসূচি।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে অবস্থিত রানা প্লাজায় থাকা পোশাক কারখানার শ্রমিকরা প্রতিদিনের মতো ওই দিন সকাল ৮টায় হাজির হন নিজ নিজ কর্মস্থলে। উৎপাদনও শুরু করেন নির্ধারিত সময়ে। হঠাৎ সাড়ে ৯টার দিকে বিকট শব্দ। আশপাশে উড়তে থাকে ধুলাবালি। ধসে পড়েছে সাভারের রানা প্লাজা। শুরু হয় আহত শ্রমিকদের আহাজারি। উদ্ধারে এগিয়ে আসেন স্থানীয়রা। পরে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, আনসার, র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। চলে বিরতিহীন উদ্ধার অভিযান।

 

রানা প্লাজার প্রথম তলায় ছিল বিভিন্ন দোকান, দ্বিতীয় তলায়ও ছিল দোকান আর ব্যাংক, তৃতীয় তলার নিউ ওয়েভ বটমস লিমিটেড, চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় নিউ ওয়েভ স্টাইল লিমিটেড ও ফ্যানটম ট্যাক লিমিটেড, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় ইথারটে লিমিটেড গার্মেন্টস।

 

রানা প্লাজা থেকে ১১৩৬ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আর ২৪৩৮ শ্রমিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আহতদের মধ্যে অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অনেকে আবার মানসিক রোগী হয়ে আছেন।
 
 

নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রানা প্লাজা ধসের পর ২০১৩ সালের ২৪ মে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা ধ্বংসস্তূপ রানা প্লাজার সামনে নির্মাণ করেন এক শহীদ বেদি। অস্থায়ী শহীদ বেদিটির নামকরণ করা হয় প্রতিবাদ-প্রতিরোধ। এ বেদিটিকে কেন্দ্র করে এখনও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন চালিয়ে আসছে নানা আন্দোলন কর্মসূচি।

 

অধিকাংশ ধ্বংসস্তূপই সরিয়ে নিয়ে ফেলা হয়েছে বংশাই নদীর পাড়ে। এখনও কংক্রিট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে রানা প্লাজার ১৮ শতাংশ জমির ওপর। চারপাশটা কাঁটাতার ও টিনের বেড়া দিয়ে রেখেছিল জেলা প্রশাসক। সেটিও আর নেই। সামনেই বিভিন্ন সংগঠন তৈরি করেছে শহীদ বেদি। বছর পূর্তিতে রানা প্লাজায় আহত, নিহত আর স্বজনদের আনাগোনা চোখে পড়ে। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন নানান দাবিতে এখানে আন্দোলন করেন।

 

সোহেল রানার মালিকানাধীন রানা প্লাজার ভূমি, রানা টাওয়ারের ভূমি ও ধামরাইয়ের রানা ব্রিকসের ভূমি সরকারের দখলে রয়েছে। আদালতের নির্দেশে তার মালিকানাধীন সব ভূমি বাজেয়াপ্ত করে ঢাকার জেলা প্রশাসক দখল বুঝে নিয়েছে।

 

বেদনার সাক্ষী হয়ে আছে সাভারের অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ। ঘটনার দিন থেকে টানা ১৭ দিন ওই বিদ্যালয়ের মাঠে নিহতদের লাশ নিয়ে রাখা হতো। আর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হতো সেই মাঠ থেকে। প্রিয় মানুষটির সন্ধান পেতে স্বজনরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেছিলেন। রানা প্লাজা থেকে বিদ্যালয়ের মাঠ দেড় কিলোমিটারজুড়ে সে সময় অ্যাম্বুলেন্সের মুহুর্মুহু শব্দ সবাইকে জাগিয়ে তুলতো। আর অপেক্ষারত স্বজনরা হুমড়ি খেয়ে পড়তেন- এই বুঝি এলো তার স্বজন।

 

রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর প্রায় প্রতিটি শ্রমিক সংগঠনই নড়েচড়ে বসে। শ্রমিকদের কর্ম পরিবেশ নিরাপদ রাখতে আন্দোলন শুরু করেন। নিহত ও আহতদের লস অব আর্নিংয়ের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও করেন তারা। ২৪ এপ্রিলকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করার জোর দাবি জানান তোলেন তারা।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, প্রতি বছর এই দিনে আমরা নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করি। প্রতি বছরই আমরা একই দাবি তুলে ধরি, রানা প্লাজার অনেক শ্রমিক রয়েছেন যারা এখনও ক্ষতিপূরণ পায়নি। দ্রুত ওই সব শ্রমিকদের লস অব আর্নিংয়ের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। এ ছাড়া সরকার সোহেল রানার যে সব সম্পত্তি জব্দ করেছে সেসব নিহত ও আহত পরিবারের মাঝে বিলিয়ে দিতে হবে। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবির কোনোটাই বাস্তবায়ন করা হয়নি। আমরা আশা করি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমাদের দাবিগুলো পূরণ করবে। ভবন মালিক সোহেল রানাসহ দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবে। 

 

এ ঘটনার জন্য সে সময় স্থানীয় প্রশাসনের গাফেলতিকেই দায়ী করছিল স্থানীয় সুশীল সমাজ ও আহত শ্রমিকরা। তাদের দাবি ছিল, ভবনটি ধসের ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগেই ফাটল দেখা দিয়েছিল ৪ ও ৫ তলার কয়েকটি পিলারে। যা দেখে শ্রমিকরা কর্মস্থল থেকে নেমে আসেন মহাসড়কে। এমন সংবাদের পর সেখানে ছুটে যান স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। তবে সংবাদকর্মীদের ওই স্থানে প্রবেশ করতে দেয়নি মালিক কর্তৃপক্ষ । এ সময় সংবাদকর্মীরা যোগাযোগ করেন স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের কাছে। সংবাদ প্রচার হয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিল মিডিয়ায়। 

পরে ওই দিন বিকালেই ভবনের ফাটল দেখতে আসেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কবির হোসেন সরদার। তিনি এসে ভবনটির কয়েক ব্যবসায়ী ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘এ ফাটলে তেমন কোনও সমস্যা নেই, বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা নেই। সামান্য প্লাস্টার উঠে গেছে। সব ঠিক হয়ে যাবে।’ এ বলে তিনি চলে যান।

তার এ বক্তব্যের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই ভবনটিতে ঘটলো দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভবন ধসে হতাহতের ঘটনা। নিভে গেলো হাজারের বেশি জীবন প্রদীপ। সে সময় পদক্ষেপ নিলে এমন ঘটনা নাও হতে পারতো। অবশ্য এ ঘটনায় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কবির হোসেন সরদারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।


কমেন্ট বক্স
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল